ফ্লোটিলার জোয়ারে জাগ্রত হচ্ছে পুরো বিশ্ব
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা যেদিন যাত্রা শুরু করে, তখন প্রশ্ন ছিল—নৌবহরটি আদৌ গাজার উপকূলে পৌঁছাতে পারবে কি না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে তাদের বার্তা—‘গাজা একা নয়।’ শত শত নারী-পুরুষ নিজেদের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে অবরুদ্ধ এক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। তারা বুঝিয়ে দেয়—গাজার অবরোধ কেবল একটি অঞ্চলের নয়, বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসন, যার বিরুদ্ধে বিশ্বকে সোচ্চার হতে হবে।
তাদের প্রতীকী লক্ষ্য ছিল মানবিক সহায়তা গাজায় পৌঁছে দিয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধ ভাঙার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে, অনাহারে নিস্তেজ গাজাবাসী ও মৃত্যুপথযাত্রী শিশুদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ নীরব বিশ্বের বিবেককে জাগিয়ে তোলা। কিন্তু ভূমধ্যসাগরে পৌঁছেই ফ্লোটিলার নৌযানগুলোকে ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা চালিয়ে আটক করা হয় কর্মী ও যাত্রীদের।
ফলাফল—একটি আঞ্চলিক অভিযান বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইউরোপ থেকে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকা—ফ্লোটিলার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে মহাদেশ পেরিয়ে। বিশ্বজুড়ে রাস্তায় নামে মানুষ, শোনা যায় একটাই স্লোগান—“গাজা, তুমি একা নও।”
১ সেপ্টেম্বর বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে নৌবহরটি। পরে তিউনিসিয়া, সিসিলি ও গ্রিস থেকে আরও নৌযান যুক্ত হয়। ৪৪টি জাহাজ ও ৪৪টি দেশের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী—রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকারকর্মী—অংশ নেন এই অভিযানে। তাদের মধ্যে ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাউ।
আরো পড়ুন : শহিদুল আলম ও গাজার পাশে আছি—থাকব : ড. মুহাম্মদ ইউনূস
যাত্রাপথে হামলা, ড্রোন নজরদারি ও নানা বাধা সত্ত্বেও তারা এগিয়ে যান। ফ্লোটিলার ওপর আক্রমণের পর গ্রেপ্তার, নির্বাসন ও নৌযান আটক—সবই রূপ নেয় আন্তর্জাতিক ক্ষোভে। ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, ধর্মঘট, সংহতির মিছিল; লাতিন আমেরিকায় কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া—কলম্বিয়া এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্র নিন্দা জানায়। ফ্লোটিলা হয়তো গাজায় পৌঁছায়নি, কিন্তু পৌঁছেছে মানবতার প্রতিটি বন্দরে। তাদের বার্তা এখন এক প্রতিধ্বনি— গাজা কেবল একটি শহর নয়, এটি এক বিশ্ববোধের নাম।
সুমুদ ফ্লোটিলা দেখিয়েছে, একটি নৌবহরও পারে বিশ্বজুড়ে ন্যায়বোধ, সংহতি ও প্রতিরোধের ঢেউ তুলতে। গন্তব্য নয়, যাত্রাটিই এখন ইতিহাস।
Janatar Voice জনতার ভয়েস খবর পেতে ফেসবুক পেইজ ফলো করুন


No comments