নির্বাচন ব্যাহতকারীদের রাজপথেই প্রতিরোধ করা হবে : মেজর হাফিজ
নির্বাচন ব্যাহতকারীদের রাজপথেই প্রতিরোধ করা হবে : মেজর হাফিজ
পাহাড়ে আবারও পুরনো খেলা শুরু হয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন বানচালকারীদের বিএনপি রাজপথেই প্রতিরোধ করবে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যারা বলছে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—বিএনপি কোনো দুর্বল শক্তি নয়। ইনশাআল্লাহ রাজপথেই দেখা যাবে, কারা নির্বাচন ঠেকাতে চায়। ১৭ বছরের ত্যাগ-তিতিক্ষা ব্যর্থ হতে পারে না; ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।
প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখনও প্রশাসনের ভেতর স্বৈরাচারের দোসররা সক্রিয় আছে। এদের সরানো না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের স্বার্থেই প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করা জরুরি।
খাগড়াছড়ির ঘটনায় ইন্ধন রয়েছে প্রতিবেশী দেশের : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আয়োজিত ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নাই’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ বিএনপি ও মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
বর্তমান আলোচনায় প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে হাফিজ বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। যদি কেউ এই ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তবে আগে জনগণকে বুঝিয়ে তাদের ম্যান্ডেট নিতে হবে। কেবল ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা কিছু বুদ্ধিজীবীর পরামর্শে জনগণের ওপর অচেনা ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দেশের গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে কখনোই তা মেনে নেবে না।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি দেশের গৌরব হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় সাফল্য দেখাতে পারেননি। ব্যয় সংকোচন না করে ১০৪ সদস্যের বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়া দুর্বল অর্থনীতির জন্য অযৌক্তিক। গত বছর ৫৪ জন গিয়েছিলেন, সেটি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও এবারের আয়োজন ছিল নিছক বিলাসিতা, যা জনগণের ট্যাক্সের অর্থ অপচয় ছাড়া কিছু নয়।
একটি দল পিআরের নামে নির্বাচন বানচাল করতে চায়: বরকত উল্লাহ বুলু
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাও এর চেয়ে বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। কখনো বিমান ভাড়া করে দিনের পর দিন বিদেশে বসিয়ে রাখা হয়েছে, যার খরচ গেছে জনগণের ঘামঝরা অর্থ থেকে। অথচ সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের নেতারাও বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করেন।
হাফিজ দাবি করেন, শেখ হাসিনার পতনের পর কিছুটা প্রেস ফ্রিডম এসেছে, যার ফলে সরকারের দুর্নীতির চিত্র এখন প্রকাশ্যে আসছে। আওয়ামী লীগের লুণ্ঠনের কাহিনি সীমাহীন—একজন প্রতিমন্ত্রীর শুধু লন্ডনেই ৩৬০টি বাড়ি, দুবাইতে ২০০টির বেশি বাড়ি, আমেরিকাতেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে।
পাহাড়ি অঞ্চল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার পুরনো খেলা শুরু হয়েছে। একসময় সেখানে ভারতীয় পতাকা ওড়ানো হতো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাঙালিদের পুনর্বাসন করে জনসংখ্যার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন, ফলে স্বাধীনতার নামে বিচ্ছিন্নতার সুযোগ আর কেউ পায়নি। এজন্য জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন—তিনি বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।
Janatar Voice জনতার ভয়েস খবর পেতে ফেসবুক পেইজ ফলো করুন


No comments